



রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের উত্তর কোলকোন্দ গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডে তিস্তার ভাঙন রোধে নির্মিত গ্রোয়েন টির গোড়ায় পানির স্রোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গ্রোয়েন ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া গ্রোয়েনের পাশেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে আবাদি জমি ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াসহ ক্ষতি থেকে গ্রোয়েন রক্ষার দাবিতে বুধবার বিকেল ৬ টায় গ্রোয়েনের উপরে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। জেলা এনসিপির আহবায়ক আল মামুনের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা এনসিপির আহবায়ক আল মামুন, উপজেলা এনসিপির আহবায়ক সাজু আহম্মেদ লাল, উপজেলা এনসিপির যুগ্ন সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম শুভ, কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা মুনতাসীর মামুন, চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নিকা রেজিস্ট্রার শিক্ষক আসাদুল হক আনছারী, ইউপি সদস্য লাল মিয়া, এলাকাবাসী আশরাফ আলী, ইলিয়াস আলী, পারভীন বেগম। মানববন্ধনে কোলকোন্দ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলামসহ এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। বক্তারা বলেন, এই এলাকায় তিস্তার ভাঙন রোধে প্রায় ২৫ বছর আগে গ্রোয়েনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও এখানে তেমন কোন ভাঙন দেখা দেয়নি। কিন্তু এবার এখনও পুরো বন্যা দেখা না দিলেও তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি যাওয়াতেই স্রোতের ধাক্কায় গ্রোয়েনের গোড়ায় আঘাত হানে। ফলে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং নিচে দিয়ে পানি ঢুকে বের হয়ে যাচ্ছে। এর কারণে গ্রোয়েনটি ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্রোয়েনের নিচ দিয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ার কারণে পাশের আবাদি জমি ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত গ্রোয়েন রক্ষাসহ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে মুল বাঁধে তিস্তা আঘাত হানবে এবং বাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির সব তিস্তার পেটে চলে যাবে। তারা দ্রুত গ্রোয়েন রক্ষাসহ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি করেন। এদিকে গ্রোয়েনের পাশেই বসবাস করেন নিতিশ চন্দ্র ও বিধবা সুধারানী। তারা মানববন্ধন শেষে জানান, আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে ভাল আছি। তিস্তার পানি বাড়লেও এখানে তেমন কোন সমস্যা হয় নাই। বেশি বন্যা হলে একটু বাড়িতে উঠে। এবার বড় বন্যা না হতেই বাড়ির পাশে আবাদি জমি ভাঙছে, গ্রোয়েনের গোড়া দিয়া তিস্তার পানি এ পাশ থেকে ও পাশ যাচ্ছে। ভয় হচ্ছে কখন গ্রোয়েন ক্ষতি হয়ে জমিসহ বাড়ি ভেঙে যায়। সে ভয়ে আতঙ্কে আছি। তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা জালাল মিয়া বলেন, ৯৮/৯৯ সালে এখানে একটি এবং এখান থেকে দেড় দুই কিলোমিটার দূরে আরেকটি গ্রোয়েন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে তিস্তা বড় ধরনের থাবা তেমন এখানে দিতে পারে নাই। তারপরও বন্যার সময় ভাঙন আতঙ্ক থাকে। এই আতঙ্কের মাঝে বসবাস। এবার সে আতঙ্ক বাস্তব হচ্ছে। গ্রোয়েনের ক্ষতি ও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে শুধু এলাকা নয় পাশের এলাকারও ক্ষতি হয়ে যাবে। অন্যদিকে মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে যৌথভাবে ঢাকা থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির প্রতিনিধি টিম পরিদর্শন করেন। তারা গ্রোয়েন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন