



রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী ইউনিয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ব্রাকসু) নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠনের নির্বাচন হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও ব্রাকসু নির্বাচনও আয়োজন করা হয়নি।
এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্বের অভাব তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তবে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আদায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন। এতে প্রশাসনেরও সুবিধা হয়। প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত সব শিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।’
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, ‘৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে থেকে শিক্ষক সমিতির কোনো কার্যক্রম নেই। এটা আপাতত এভাবেই আছে। তবে কয়েকজন মুখে মুখে বলে কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ এটা নিয়ে কথা বলে না।’
জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করি এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ব্রাকসুর শিবির-সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আহমেদুল হক আলভী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই ব্রাকসু নির্বাচন দিতে আগ্রহী ছিল না। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা ছাত্র সংসদ আইন আদায় করেছি। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও প্রশাসন টালবাহানা করেছে। কেন নির্বাচন দিচ্ছে না, তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে না। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও নির্বাচন আয়োজন করছে না। ফরম কেনাসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যয় হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় সেই অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্রাকসু নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘আমরা সবসময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন চেয়ে এসেছি। গঠনতন্ত্রের যেসব ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। সরকার থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলে প্রথমে ব্রাকসু নির্বাচন এবং পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’
Tags: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়বেরোবি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন