দুর্ঘটনায় দেরি হলেও থাকছে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ

পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামসহ পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলেও, স্থানীয় প্রশাসন যৌক্তিক মনে করলে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এদিকে কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে, শুধু ওই এলাকার পরীক্ষা নয়, সেদিনের সারা দেশের পরীক্ষাই স্থগিত করে পরবর্তী নির্ধারিত দিনে একযোগে নেওয়া হবে।
নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থা
নকল ও অনিয়ম ঠেকাতে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি বডি ক্যাম ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে নতুন এ ব্যবস্থাকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, আগে বডি ক্যামেরার অভিজ্ঞতা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও তারা সহজ ও মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রত্যাশা করছেন।
প্রশ্নের মান নিয়ে শিক্ষাবিদদের মত
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র একটি ভালো উদ্যোগ। তবে শহর ও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, ল্যাব, শিক্ষক এবং পাঠদানের মান বিবেচনায় রেখে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার না হয়।
দুর্ঘটনায় দেরি হলেও মিলতে পারে সুযোগ
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী দুর্ঘটনার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি যৌক্তিক মনে করলে তাকে কিছুটা সময় দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
তিনি আরও জানান, কোনো বিভাগ বা এলাকায় বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে সেদিনের পরীক্ষা সারা দেশেই স্থগিত করে পরবর্তী নির্ধারিত দিনে একযোগে আয়োজন করা হবে।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের সংখ্যা
গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজারের বেশি। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৯৯৭টি।
এনএনবাংলা/
