Skip to content

LIVE 69'
Argentina
0-2
Egypt
Source: ESPN

বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ, কূটনীতিতে নতুন যুগের ইঙ্গিত: জন এফ ড্যানিলোভিচ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে কৌশলগত ভারসাম্যের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বলেন, বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ। তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকা বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে চায়।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং ঢাকার পক্ষ থেকে তাঁকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়টিও উঠে আসে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আশ্রয় দেওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ড্যানিলোভিচ বলেন, ইতিহাস ও ভূগোলের কারণে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট’ নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ সম্পর্কে ছড়ানো অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ভারতীয় জনমতকে প্রভাবিত করেছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার আলোচনা নিয়েও তিনি মত দেন। তাঁর মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বিনিয়োগের উৎস। ভবিষ্যতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোও বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে।

তবে এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ যদি দক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করতে পারে, তাহলে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের কারণ হবে না।

রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়েও বাংলাদেশে যে বিতর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে ড্যানিলোভিচ বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দীর্ঘমেয়াদে এককভাবে বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এ বিষয়ে সমালোচনার বড় একটি অংশ ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার কারণে সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা, যা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কিংবা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিও দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম

এনএনবাংলা/