সিফতাকে এবার বহিষ্কারের উদ্যোগ আদমজী কলেজের

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি তুলে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে ‘অশালীন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষও।
মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কেন কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষে অধ্যাপক ড. নিলুফা আহসানের সই করা ওই নোটিশ জারি করা হয়। এতে সিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে যথাযথ কারণ জানাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাসার বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতার বিষয় উল্লেখ করে সিফাত ফেসবুকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ একটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কলেজের নীতিমালায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নোটিশে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের স্থায়ী পরিচালনা নীতিমালার অধ্যায় ৯-এর অনুচ্ছেদ ৯.৮-এর ক্রমিক ৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থীকে কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে যথাযথ কারণ জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি সেনাসদর ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস
