জাকাতের টাকা দিয়ে কাউকে হজে পাঠালে কি জাকাত আদায় হবে?

জাকাতের অর্থ দিয়ে কাউকে হজে পাঠানো যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে জাকাতের ফান্ড থেকে সরাসরি কোনো ব্যক্তির হজের টিকিট, ভিসা বা এজেন্সির খরচ পরিশোধ করলে জাকাত আদায় হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জাকাত সহিহ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘তামলীক’। অর্থাৎ, জাকাতের অর্থ বা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। শুধু ওই ব্যক্তির জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয় করলেই তামলীক সম্পন্ন হয় না।
সরাসরি হজের খরচ বহন করলে জাকাত আদায় হবে না
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি জাকাতের ফান্ড থেকে সরাসরি কাউকে হজে পাঠানোর খরচ বহন করে, যেমন—হজের টিকিট কেনা, ভিসার ব্যবস্থা করা কিংবা হজ এজেন্সিকে অর্থ পরিশোধ করা, তাহলে এভাবে জাকাত আদায় হবে না।
কারণ, এ ক্ষেত্রে জাকাতের অর্থ জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তির সরাসরি মালিকানায় দেওয়া হচ্ছে না। বরং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেই তা ওই ব্যক্তির হজের পেছনে ব্যয় করছে।
জাকাতের টাকা হাতে দিয়ে দিলে ভিন্ন বিধান
তবে জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে যদি জাকাতের অর্থ সরাসরি দিয়ে তার পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ‘তামলীক’ সম্পন্ন হবে। এরপর ওই ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় সেই অর্থ দিয়ে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জাকাতদাতার জাকাত সহিহভাবে আদায় হয়ে যাবে।
এর কারণ হলো, অর্থ হস্তান্তরের সময়ই জাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তি ওই টাকার পূর্ণ মালিক হয়ে গেছেন। এরপর তিনি সেই অর্থ হজে ব্যয় করবেন, নাকি পরিবারের প্রয়োজন মেটাবেন—সেটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
অর্থাৎ, জাকাতের অর্থ সরাসরি উপযুক্ত ব্যক্তির মালিকানায় না দিয়ে তাকে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে জাকাত আদায় হবে না। কিন্তু জাকাতের অর্থ তাকে সরাসরি দিয়ে পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়ার পর তিনি নিজের ইচ্ছায় সেই অর্থ দিয়ে হজে গেলে জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।
এনএনবাংলা/
