৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লায় নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। এর আগেও এ বছর নিখোঁজ শিশুদের কাউকে পাওয়া গেছে মাটিচাপা অবস্থায়, কাউকে নদীতে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১৮ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও কয়েকজন শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনি তথ্য জানিয়েছে জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা মুন অ্যালার্ট। নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনের সঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। যেমন জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের একটি শিশু ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য নিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করে আসক। তাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজের পর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫৫। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে নিহত ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে নিহত ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪, গুলিতে নিহত ৩, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু ২, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এর বাইরে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনা আছে।
শিশুহত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের সংবাদ প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও ৮৭ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৯। সেই হিসাবে নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো জরুরি। একই সঙ্গে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি শিশুটির ছবি, পোশাক, সর্বশেষ কোথায় দেখা গেছে এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য দ্রুত সরবরাহ করা প্রয়োজন। শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবারকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের একা বাইরে যেতে না দেওয়া, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কোথাও না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের ওপর বাড়তি নজর রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানোর আগে যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু নিখোঁজ ও উদ্ধারের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এনএনবাংলা/এনজেড
