সাম্প্রতিক
জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ. লীগ সন্দেহে আটক শতাধিক আন্দোলন উত্তাল চুয়েট, নতুন ভিসিকে ‘রেড কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস: নিহত ১,৪৫৩, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার ডেঙ্গুতে বেড়েই চলছে মৃত্যু, একদিনে ৮ প্রাণহানি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা: ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি সই’ এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেল আল-জাজিরার ‘হাসিনা: ৩৬ ডেইজ ইন জুলাই’ রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, আড়ালে মাদক বিক্রি, গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ, সরাসরি ‘না’ ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের সফরে কী কী হলো?
Skip to content

সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসনে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের রেয়াতি ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ঋণ সুবিধার আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নারীদের।

‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অনুমোদিত বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষের হাতে এই ঋণ পৌঁছাবে। জামানতবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি এই ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘর নির্মাণ, সংস্কার বা আধুনিকায়ন করতে পারবেন।

নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে আয় করা পরিবারগুলোর আবাসন ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ মোকাবিলায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এসব পরিবারকে ঋণসুবিধা দেয় না।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, মর্যাদা, সুযোগ ও অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য আবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারীদের, নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়িতে বিনিয়োগে সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানব উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটির আওতায় অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন।

প্রকল্পের আওতায় আর্থিক ও ভূমিবিষয়ক জ্ঞান এবং আবাসন অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের স্বামী বা স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার মাধ্যমে নারীদের আবাসন নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আবাসন অর্থায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের আর্থিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সঙ্গে আবাসন অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ঋণগ্রহীতার স্বামী বা স্ত্রীর বসবাসের ব্যবস্থা সম্পর্কিত কঠোর নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতেও প্রকল্পে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশব্যাপী আবাসন ক্ষুদ্রঋণের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাড়িগুলোকে আরও টেকসই ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে নকশা, নির্মাণ এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে এমন বাড়ি নির্মাণে সহায়তা করা হবে, যেগুলো বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অন্যান্য দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।

এ প্রকল্প বাংলাদেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করবে। এজন্য পিকেএসএফ এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। উন্নত তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, দুর্যোগ ও ঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

এনএনবাংলা/এফএস