সাম্প্রতিক
জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ. লীগ সন্দেহে আটক শতাধিক আন্দোলন উত্তাল চুয়েট, নতুন ভিসিকে ‘রেড কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস: নিহত ১,৪৫৩, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার ডেঙ্গুতে বেড়েই চলছে মৃত্যু, একদিনে ৮ প্রাণহানি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা: ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি সই’ এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেল আল-জাজিরার ‘হাসিনা: ৩৬ ডেইজ ইন জুলাই’ রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, আড়ালে মাদক বিক্রি, গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ, সরাসরি ‘না’ ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের সফরে কী কী হলো?
Skip to content

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত পেতে মুনাফা ছাড়ার শর্ত, ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত জমা করা আমানতের মূল টাকা এককালীন তুলে নিতে গিয়ে নানা শর্তের মুখে পড়ছেন গ্রাহকেরা। 

আর্থিক অনিয়মের কারণে একসময় সংকটে পড়েছিল দেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, যার মালিকানা এখন সরকারের হাতে।

সরকারের উদ্যোগে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটির আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবে টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি নিয়ে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে এককালীন অর্থ তুলতে যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মুনাফা ছাড়ার শর্ত সামনে আসছে।

এই প্রক্রিয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জমা টাকার ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না—এই দুই বছরের মুনাফায় এক প্রকার কর্তন বা ‘হেয়ারকাট’ কার্যকর হবে। তবে পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২৫ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থের ওপর কোনো হেয়ারকাট প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা তাঁদের মূল টাকা তুলে নিতে পারবেন বলেও নিশ্চিত করা হয়।

হেয়ারকাট বাতিল হলেও পুরো টাকা একসঙ্গে তুলতে চাওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই পৃষ্ঠার একটি ‘আবেদনপূর্বক অঙ্গীকারনামা’ নেওয়া হচ্ছে। এই দলিলে বলা আছে, একবার মূল টাকা নেওয়ার পর সেই আমানত হিসাব সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এর অর্থ, গ্রাহক পরবর্তীতে আর কোনো দাবি, অভিযোগ বা মামলা করতে পারবেন না—শুধু তিনি নিজে নন, তাঁর উত্তরাধিকারী, নমিনি বা আইনগত প্রতিনিধিও এই শর্তে আবদ্ধ থাকবেন। দলিলে গ্রাহকের স্বাক্ষরের পাশাপাশি দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষরও নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক ইতিমধ্যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ তুলে নিয়েছেন। তবে আশার দিকও আছে—একই সময়ে ব্যাংকে নতুন আমানত এসেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি, এবং নতুন করে খোলা হয়েছে ৩২ হাজারের বেশি হিসাব, যেখানে জমা পড়েছে আরও কয়েকশ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মুখপাত্রের মতে, এই পাঁচটি ব্যাংক আগে যাদের ঋণ দিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা এখনো ফেরত না আসায় তরল অর্থের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই যাঁরা জরুরি ভিত্তিতে টাকা তুলতে চাইছেন, তাঁদের মুনাফার অংশ সাময়িকভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সংকট কাটলে বাকি আমানতকারীরা মুনাফাসহই তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাবেন।

তবে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরনের অঙ্গীকারনামা নেওয়ার প্রক্রিয়া বৈধ নয় এবং এতে আমানতকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে গত সোমবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সব বিভাগীয় প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে ব্যক্তিগত মেয়াদি আমানত এবং স্কিমভিত্তিক আমানতের মুনাফার হার নতুন করে নির্ধারণ এবং হিসাব পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছে। তবে নতুন মুনাফার হার এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এছাড়া মৃত আমানতকারীদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথাযথ কাগজপত্র যাচাই করে উত্তরাধিকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার এবং ব্লক করা হিসাবগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আনব্লক করে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/এফএস