এনবিআরের দুই কর্মীর কাছে আসে প্রশ্নপত্র, পরে উত্তর তৈরি করে ছড়ায় চক্র: এসআরবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীর কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর পর এর উত্তর তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, চক্রের সদস্য হাসিনুর রহমান সুজন এবং চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম।
এসআরবি জানায়, পরীক্ষার দিন ভোর পৌনে ৫টার দিকে একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান নূর মোহাম্মদ। পরে সকাল সোয়া ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলের কাছে পাঠান। এরপর চক্রের সদস্যরা নিজেদের যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রশ্ন বিতরণে যুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার্থী সংগ্রহ, প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত এবং সেগুলো সরবরাহের জন্য চক্রটির সদস্যরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করতেন। তারা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আট থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও পেয়েছে এসআরবি। তবে অর্থের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ছিল।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২০টি স্ট্যাম্প, এক সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, আটটি মোবাইল ফোন, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, নূর মোহাম্মদ প্রথমে দাবি করেছিলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নটি পেয়েছেন। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রশ্নটি কোথা থেকে ফাঁস হয়েছে এবং সরকারি কোনো কর্মকর্তা এতে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে একাধিক চক্র জড়িত থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে নূর মোহাম্মদকে মূল হোতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এনএনবাংলা/
