এইচএসসিতে পাস সাড়ে ৬ লাখ, উচ্চশিক্ষায় আসন প্রায় ১৫ লাখ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ১৫ লাখ আসন রয়েছে। অথচ এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় উচ্চশিক্ষায় আসন রয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি।
এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, এ বছর এইচএসসিতে পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ আসন থাকলেও পাস করেছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব মানদণ্ড ও নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট থাকবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে।’
ইউজিসির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেগুলোর অধিভুক্ত কলেজ-ইনস্টিটিউটগুলোতে আসন সংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন রয়েছে।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১ হাজার ৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি আসন রয়েছে।
সব মিলিয়ে এ বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় উচ্চশিক্ষার আসন সংখ্যা দ্বিগুন থাকলেও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব যোগ্যতা, ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিমালাই মূল বিবেচ্য হবে।
এনএনবাংলা/
