বিয়ে-সংসার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন কুসুম শিকদার

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন অভিনেত্রী কুসুম শিকদার। বিয়ে, সংসার কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক—কোনো বিষয়েই প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলেন না তিনি। তবে বিয়ে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও বারবার করা প্রশ্নের জবাবে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, তিনি ভালো আছেন, সুখে আছেন এবং স্বাধীন জীবন উপভোগ করছেন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের তারকাড্ডায় অংশ নিয়ে বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন কুসুম। যারা বারবার তাকে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তাদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি হ্যাপি আছি, আমি স্বাধীন আছি। আমি তো এটাই সব সময় বলি। যারা বারবার জানতে চান, বিয়ে কবে খাওয়াব, তাদের উদ্দেশে বলব, আমার বয়সটা দেখুন। আপনারা আসলে অনেক কিছু মিস করে ফেলেছেন, যেগুলো আপনাদের গবেষণা করে জানা দরকার। এটা আপনাদের দায়িত্ব।’
ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কুসুম শিকদার। তার মতে, পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনকে এক করে দেখতে চান না তিনি। কাছের মানুষদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত পরিসর নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তৈরি হোক, সেটিও চান না।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনোই চাই না, আমার পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন এক হয়ে যাক। আমার কাছের মানুষ, ভালোবাসার মানুষদের হয়তো আমার চেয়ে চার-পাঁচজন কম চেনে। কিন্তু তারা নিজেদের জায়গায় তারকা, নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাদের নিয়ে এমন কোনো আলোচনা হোক, যেটা সাধারণত আমাদের মতো পরিচিত মুখদের নিয়ে হয়, তা আমি চাই না। এ জন্যই অনেক কিছু স্পষ্ট করে বলি না।’
নিজের ভালো থাকার প্রসঙ্গে কুসুম বলেন, তার জীবনে বাবাসহ যেসব পুরুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাদের মধ্যে একজন বিশেষ মানুষই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষটির সঙ্গে নিজের ভালোবাসার সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কুসুমের ভাষায়, ‘আমি ভালো আছি, সুখে আছি। আমার জীবনে আমার বাবাসহ যেসব পুরুষের কারণে আমার জন্ম হয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যিনি পালন করেছেন, সেই মানুষটিই আমার ভালোবাসার মানুষ, আমার কাছের মানুষ। কারণ, সেই মানুষটি না থাকলে আসলে কুসুম শিকদারেরই জন্ম হতো না।’
এদিকে নেতিবাচক মানুষ ও পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। একসময় অন্যের কথায় মানসিক চাপ অনুভব করলেও সময়ের সঙ্গে নিজেকে সামলাতে শিখেছেন তিনি। এখন সচেতনভাবেই নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলেন।
এ বিষয়ে কুসুম বলেন, ‘নেতিবাচক শক্তি আমি গ্রহণ করি না। যেসব মানুষ আমাকে মানসিক চাপ দিতে পারে, তাদের আমি চিনি। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, সে আমাকে মানসিক চাপ দিতে পারে কি না। এ ধরনের মানুষ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকি। কম মিশি, কখনো মিশিই না।’
নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন সামাজিক আড্ডা ও অনুষ্ঠান থেকেও দূরে থাকেন বলে জানান তিনি। কুসুমের ভাষ্য, যেসব জায়গায় গেলে অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, সেসব অনুষ্ঠানে যাওয়াও এড়িয়ে চলেন। নিজের মানসিক স্বস্তি বজায় রাখতে ব্যক্তিগত পরিসরে অন্যদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত রাখাকেই গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী।
এনএনবাংলা/
