আবারও আলোচনায় গোলাম মাওলা রনির বিয়ে, স্ত্রী দাবি করা নারী কে?

সাবেক সংসদ সদস্য ও টকশো ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী নেত্রীর পরিচয় সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ওই নারীকে রনির স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত কাবিননামা এবং রনির বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক পরিস্থিতি।
আলোচনায় আসা ওই নারীর নাম ফারজানা আফরোজ। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান। সম্প্রতি এনসিপির নারী উইং ‘জাতীয় নারী শক্তি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে ফারজানা আফরোজের সঙ্গে গোলাম মাওলা রনির বিয়ের একটি কাবিননামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রকাশিত কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মে চট্টগ্রামে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
তবে এই বিয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন গোলাম মাওলা রনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে ফারজানা আফরোজের ছবি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ওই নারী বর্তমানে তার স্ত্রী নন। বরং অতীতে বিয়ের দাবি নিয়ে ওই নারী তার কার্যালয় ও বাসায় গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
ফেসবুক পোস্টে রনি দাবি করেন, স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারী একদিন তার অফিসে উপস্থিত হলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ বিয়ের প্রমাণ দেখতে চাইলে ওই নারী কাগজপত্র থাকার কথা বললেও তা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন রনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই নারী তার ধানমন্ডির বাসায় গেলে তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ ওই নারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করে।
রনি আরও দাবি করেন, আইনজীবীদের পরামর্শে দীর্ঘ আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি কাবিননামায় উল্লেখিত দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তালাকের নোটিশ পাঠান। তার দাবি, তালাক কার্যকর ও রেজিস্ট্রি হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে।
নিজের পোস্টে রনি অভিযোগ করেন, ওই নারী ও কয়েকজন ইউটিউবার তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার প্রচার করেছেন। এ ছাড়া তার সামাজিক সম্মানকে পুঁজি করে বিভিন্ন দাবি তোলারও চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে ওই নারীর সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেননি বলেও দাবি করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
এনসিপিতে ফারজানা আফরোজের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার গুঞ্জন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রনি। তার ভাষ্য, অতীতের এই ঘটনা এত দিন পর আবার সামনে আসার পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তার বোধগম্য নয়।
পোস্টের শেষাংশে রনি বলেন, জীবনের নানা পরিস্থিতি ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করলেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে গোপন ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে নিজের দাবির পক্ষে গোলাম মাওলা রনি শাহবাগ থানায় করা একটি অভিযোগের কপিও প্রকাশ করেছেন। তবে কাবিননামায় বিয়ের তথ্য থাকলেও তালাকের প্রক্রিয়া, দেনমোহর পরিশোধ এবং বর্তমান আইনগত অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফারজানা আফরোজ কিংবা গোলাম মাওলা রনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকাশিত কাবিননামা ও রনির পাল্টা দাবির মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এনএনবাংলা/
