সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ধর্মঘটের হুমকিতে ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়ঝক্কড়’ গাড়ি সরাতে পিছু হটছে সরকার

 

রাজধানীবাসীর মধ্যে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ঢাকার মোট বায়ুদূষণের অন্তত ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী এসব ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়ঝক্কড়’ গাড়ি।

২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো এসব লক্কড়ঝক্কড় বাস-মিনিবাস আর ট্রাকের ইঞ্জিন চাপ নিতে পারে না। তবু প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন নিয়মিত ঢাকার বাতাসকে দূষিত করেই যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে চললেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।

আইন অনুযায়ী ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস-মিনিবাস ও ২৫ বছরের বেশি পুরোনো ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সড়কে চালানো যায় না। কিন্তু মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব ও বিআরটিএর অনিয়মের কারণে এসব গাড়ি নির্দ্বিধায় চলছে। সরকারি হিসাবেই দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে ২৫ বছরের বেশি পুরোনো ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা ৪১ হাজারের বেশি এবং বাস-মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এর মধ্যে বহু গাড়িরই ফিটনেস নেই।

গত জুলাইয়ে সরকার সড়কে ফিটনেসবিহীন ২০ বছরের পুরোনো বাস ও ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘটের হুমকি দিলে অভিযান স্থগিত হয়। উল্টো সরকার মালিকদের দাবির মুখে নতুন সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রিকন্ডিশন্ড বাস ও ট্রাক আমদানির বয়সসীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো গাড়ি মালিকদের স্বল্পসুদে ঋণ ও কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে এ নিয়ে বৈঠক হয়, যেখানে পুরোনো যানবাহন আমদানির বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিদ্যমান আমদানিনীতি সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শিগগির বৈঠক হবে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে। এদিকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সংশোধনের কাজও চলছে। নতুন আইনে চালক ও সহকারীর সাজা এবং জরিমানা কমানোর প্রস্তাব আছে। এতে শাস্তির ভীতি কমে গেলে খাতটিতে আরও নৈরাজ্য দেখা দেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নীতি শিথিল করলে পুরোনো গাড়ির দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে। পরিবহন বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার যদি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে কেবল মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় নীতি গ্রহণ করে, তবে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাদের মতে, পুরোনো গাড়ি বাজার থেকে তুলে না নিলে সড়কের নৈরাজ্যও কোনোভাবেই কমবে না।

এনএনবাংলা/