সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

নাগরিকদের ইরান ত্যাগের জরুরি নির্দেশ অস্ট্রেলিয়ার

 

ইরানে চলমান নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কবার্তায় এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যদিও এখনো সীমিত আকারে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে ইরান ছাড়ার সুযোগ রয়েছে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে আকাশসীমা বন্ধ বা ফ্লাইট বাতিল হয়ে যেতে পারে, ফলে পরে দেশ ত্যাগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

হালনাগাদ সতর্কবার্তায় অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা এই পরামর্শ অমান্য করে ইরানে অবস্থান করবেন, তাদের নিরাপত্তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদেরই বহন করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ক্যানবেরা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে একটি ব্যাপক সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলনের ফলে দেশজুড়ে চরম অরাজকতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে এই বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ এবং কয়েক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো নিহতদের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি বহু এলাকায় ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলীয় প্রশাসন। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে স্বাভাবিক যাতায়াত ও নাগরিক জীবন সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই ধরনের সতর্কতা জারির কথা বিবেচনা করছে আরও কয়েকটি দেশ।

তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অবস্থান করা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এনএনবাংলা/পিএইচ