সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ইরানে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিহত কমপক্ষে ৫৩৮

 

ইরানে গত ১৫ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩৮ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৬ শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি রোববার (গতকাল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত নিহত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ গত তিন দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক কল সেবা বন্ধ থাকায় সহিংসতা ও হতাহতের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

রোববার ইরানের কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাদের মর্গে জায়গা না থাকায় নতুন আসা মরদেহ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এখন পর্যন্ত ইরান সরকার হতাহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। আন্দোলনের মূল কারণ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট।

দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

মুদ্রার এই বিপর্যয়ের কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চরম মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই তা ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আন্দোলনের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গোটা দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার যদি নিষ্ঠুরভাবে আন্দোলন দমন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথেও যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের কথা শোনার জন্য তার সরকার প্রস্তুত।

সূত্র: এএফপি

এনএনবাংলা/পিএইচ