সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

বাস্তবতা বিবেচনায় দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট: গভর্নর

 

সঠিক গভর্ন্যান্সের অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর। তিনি বলেছেন, পরিবারতন্ত্র, অনিয়ম ও দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ নিয়ে বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাত থেকে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তব চাহিদার তুলনায় দেশে অতিরিক্ত ব্যাংক থাকাও এই খাতের দুর্বলতার অন্যতম কারণ।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতা সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ৬১টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংকই যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন। ব্যাংকের সংখ্যা কমানো গেলে সুশাসন নিশ্চিত করা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সুশাসনের অভাব, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটি রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং বাকি ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি না হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে আবারও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংক রেজ্যুলিউশন ফান্ড গঠনের কাজ করছে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা করা হবে। এই রেজ্যুলিউশন কাঠামোর আওতায় শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তা এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ইতিবাচক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শরিফ মোশারফ হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সবারই জানা। খেলাপি ঋণের হার বাড়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমে গেছে, যার ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে আয় বৈষম্য কমাতে নেওয়া নীতিমালার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতকে আরও কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ ওসমান হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এনএনবাংলা/পিএইচ