সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ফেরা হলো না আর অভিনয়ে, চিরনিদ্রায় শামস সুমন

 

হাজারো ভক্ত ও সহকর্মীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। বৃহস্পতিবার বাদ এশা রাজশাহীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বুধবার সকালে রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজা। সেখানে নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে থাকায় তার মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। বৃহশপতিবার সকালে মরদেহ রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হলে নগরের ঝাউতলা মিঠুর মোড়ের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যার পর তাকে দাফন করা হয়।

রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া শামস সুমনের বেড়ে ওঠাও এই শহরেই। তিনি রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

শৈশব থেকেই তিনি বাংলাদেশ বেতারে অভিনয় ও আবৃত্তিতে যুক্ত ছিলেন। রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করে ছোটপর্দায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

চলচ্চিত্রেও তিনি রেখে গেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনী’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’ ও ‘হ্যালো অমিত’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

তবে জীবনের শেষ সময়ে অভিনয় জগত থেকে কিছুটা দূরে সরে যান তিনি। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বর্তমানে টিভি, ওটিটি ও ইউটিউবকেন্দ্রিক নাট্যচর্চা, সেগুলোর সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না। তবুও অভিনয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না—চিরতরে বিদায় নিলেন এই গুণী অভিনেতা।

এনএনবাংলা/