সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কার্যকর হচ্ছে সিগন্যাল লাইট, অমান্য করলে জরিমানা

 

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার করলে ডিজিটাল মামলাসহ জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা চালুর লক্ষ্যে সরকার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোকে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ইতোমধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।

যেসব স্থানে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো— হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, হোটেল সোনারগাঁও, ফার্মগেট পুলিশ বক্স, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাহাঙ্গীর গেট, গুলশান-২ ও গুলশান-১ ক্রসিং। এছাড়া মানিক মিয়া এভিনিউ পশ্চিম প্রান্ত (আড়ং ক্রসিং), খেজুর বাগান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, মাজার রোড, আবুল হোটেল, মৌচাক, রায় সাহেব বাজার মোড় ও লাভরোড ক্রসিংয়ে অস্থায়ীভাবে সিগন্যাল লাইট বসানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিগন্যাল স্থাপন করেছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে— হাইকোর্ট, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ, পুলিশ ভবন ও শাহবাগ ক্রসিং। এসব সিগন্যাল খুব শিগগিরই চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়েও সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।

পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং (শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি), রমনা পার্কের অরুনিমা গেটের সামনে (হেয়ার রোড), মিরপুর কলেজ/ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে (মিরপুর রোড), গাবতলী পুলিশ বক্সের সামনে (আমিনবাজার ব্রিজের পূর্বে), রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ক্রসিং (প্রগতি সরণি) এবং কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির সামনে (শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি) জেব্রা ক্রসিংয়ে সেফ পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ডিএমপি চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিটি ক্রসিংয়ে লাল, হলুদ ও সবুজ সিগন্যাল যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। লাল বাতি জ্বললে কোনোভাবেই গাড়ি চালানো যাবে না এবং হলুদ বাতি জ্বললে গতি কমিয়ে থামার প্রস্তুতি নিতে হবে।

এছাড়া লাল বাতির সময় নির্ধারিত স্টপ লাইন বা জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে গাড়ি থামাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না। বিশেষ করে ক্রসিং সংলগ্ন বাম লেনে দাঁড়িয়ে সোজা বা ডানে যাওয়ার যানবাহন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মোড় বা ক্রসিং এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পথচারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ অথবা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার করতে বলা হয়েছে। যেখানে পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল রয়েছে, সেখানে কেবল সবুজ বাতি জ্বললে রাস্তা পার হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, যদি কোনো পথচারী নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পার হন বা লাল বাতি অমান্য করেন, তবে ঘটনাস্থলেই বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে ভিডিও প্রসিকিউশন দায়ের করা হবে।

ডিজিটাল নজরদারি জোরদার

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সিগন্যাল বাতির পোলগুলোতে উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে লাল বাতি অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বাম লেন আটকে রাখা এবং অবৈধ পারাপারের বিরুদ্ধে শিগগিরই ডিজিটাল মামলা দায়ের শুরু হবে।

আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন বা সিগন্যাল অমান্য করলে কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করালে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে। একইভাবে উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ