সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকটে কমছে না ভোগান্তি

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড, হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল থেকেই বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড ও হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। দুপুরে জ্বালানিবাহী গাড়ি পৌঁছালে পুনরায় বিক্রি শুরু হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকলেও তেল পাওয়ার আশায় শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই সারিতে ভোর থেকেই চালকরা অপেক্ষা করছেন। অনেকেই জানান, তেল পাওয়ার আশায় তারা আগের রাত থেকেই লাইনে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল বলেন, তেল এলে যেন আগে নিতে পারেন—এই আশাতেই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।

অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি চললেও সেখানে তেল নিতে চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা সারি মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।

এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণায় জানানো হয়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দামে ডিজেলের লিটারপ্রতি মূল্য ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ সংকট এবং অনেক পাম্পে অচলাবস্থা থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, ‘রেশনিং’ পদ্ধতির কারণে তারা সীমিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন।

রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে তেল নিতে আসা মেজবা উদ্দিন নামে এক গ্রাহক বলেন, সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে দাম বাড়ালেও যদি তেল সহজে না পাওয়া যায়, তাহলে এই দাম বৃদ্ধির সুফল কী? পর্যাপ্ত মজুত থাকলে পাম্পগুলো কেন বন্ধ থাকবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে কিছু গ্রাহক মনে করছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে মজুতদারদের সুযোগ কমে যাবে। সাইফুল নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দাম বাড়ায় এখন আর কেউ তেল জমিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না। তার মতে, দুই-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে লাইনের চাপ কমে আসতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা দেশের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সরকার দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সাধারণ গ্রাহকদের দাবি—দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বন্ধ পাম্পগুলো চালু করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘ লাইন ও জনভোগান্তি দ্রুত কাটবে না বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।

এনএনবাংলা/পিএইচ