সাম্প্রতিক
নিজ কার্যালয়ে মারধরের শিকার আইইডিসিআরের পরিচালক ‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’: আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল তালেবান রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লগি-বৈঠা সহিংসতার ২০ বছর: আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগে যা যা ঘটেছিল বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় আরও ১২ জনের সাক্ষ্য ঋণখেলাপির পর ব্যাংক খাতে শুরু হয় ‘লুটপাটের সংস্কৃতি’: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৬৪ হত্যা হুমকির মামলা নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা: ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ: পুলিশ
Skip to content

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যবহার শুরু হচ্ছে আজ

 

দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে যাচ্ছে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিকেলে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে।

এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যাবেন।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং তারা জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও বিভিন্ন কারিগরি শর্ত পূরণে বিলম্বের কারণে এর আগে কয়েকবার সময় নির্ধারণ করেও জ্বালানি লোডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সব বাধা অতিক্রম করে এখন রূপপুরের প্রথম ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এই ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানির মূল্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরে জ্বালানি খরচ হবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বছরে প্রায় এক কোটি টন কয়লা বা ১৯ কোটি গ্যালন জ্বালানি তেল প্রয়োজন হতো। এছাড়া কয়লা বা জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে, যেখানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ৬০ বছর পর্যন্ত চালানো যায়। প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর কার্যকাল আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

এনএনবাংলা/পিএইচ