ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মিলবে ভূমিসেবা, বন্ধ হবে দুর্নীতি ও ভোগান্তি: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে জনগণকে দুর্নীতি ও অযথা ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখা হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও -এ অবস্থিত ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সারা দেশের উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে একযোগে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং এটি সরকারের দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, দেশের জমির মালিকানা কাঠামো সময়ের সঙ্গে জটিল হয়েছে। অতীতে একজনের মালিকানাধীন জমি বর্তমানে বহু অংশীদারের মধ্যে বিভক্ত হয়েছে, ফলে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস ও ডি-এস—এসব বিষয় নিয়ে আগে জনগণকে ভূমি অফিসে ঘুরতে হতো। তবে ডিজিটালাইজেশনের ফলে এখন এসব সেবা ধীরে ধীরে অনলাইনে সহজলভ্য হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু হলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সঙ্গে বাড়ছে বিরোধ, মামলা ও জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলা আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য— “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”।
এই মেলার লক্ষ্য হলো ভূমিসেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া।
এনএনবাংলা/
