Skip to content

বিশ্বকাপে মেসি-নেইমারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়তে প্রস্তুত যেসব মুসলিম ফুটবল তারকা

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই লিওনেল মেসি, নেইমার কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের লড়াই। তবে এবারের বিশ্বকাপে তাদের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একঝাঁক মুসলিম ফুটবলার, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা শিরোপা জয়ের উদযাপনে হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। মুসলিম পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের বিশ্বাসের ব্যাপারে সবসময় স্পষ্ট থেকেছেন ইয়ামাল। ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।”

ফ্রান্সের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলেও ছিল একাধিক মুসলিম তারকার উপস্থিতি। পল পগবা, এনগোলো কন্তে, উসমান দেম্বেলে, নাবিল ফেকির ও জিব্রিল সিদিবের মতো খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন। এবারও ফরাসি দলে রয়েছেন উসমান দেম্বেলে, এনগোলো কন্তে, উইলিয়াম সালিবা, মানু কোনে, রায়ান শেরকি ও ইব্রাহিম কন্তের মতো মুসলিম ফুটবলাররা, যারা দলের সাফল্যের অন্যতম ভরসা।

জার্মানির ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম আলোচিত মুসলিম তারকা ছিলেন মেসুত ওজিল। তার উত্তরসূরি হিসেবে এবার জার্মানির হয়ে মাঠে নামবেন অ্যান্টোনিও রুডিগার, লেরয় সানে, নাদিম আমিরি, আসান ওয়েড্রাওগো ও মালিক থিয়াও। তাদের ওপর ভর করেই শিরোপার স্বপ্ন দেখছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের স্কোয়াডেও রয়েছেন একাধিক মুসলিম ফুটবলার। আমাদু ওনানা, ইউরি তিলেমানস ও অ্যাক্সেল উইটসেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন দলের হয়ে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড দলে রয়েছেন জেকি আমদৌনি, গ্রানিত জাকা ও আর্ডন জাশারির মতো তারকারা।

ইউরোপের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ তুরস্ক ও বসনিয়াও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শক্তি দেখাতে প্রস্তুত। এছাড়া এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, ইরাক ও উজবেকিস্তান। এসব দেশের অধিকাংশ ফুটবল তারকাই মুসলিম এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে মুখিয়ে আছেন।

আফ্রিকার দলগুলোতেও রয়েছে মুসলিম তারকাদের শক্তিশালী উপস্থিতি। বিশেষ করে মরক্কো দলে আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুর মতো খেলোয়াড়রা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মিশরের মোহাম্মদ সালাহ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় নাম। এছাড়া আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজও দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ফুটবলে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

ঘানা, তিউনিসিয়া ও সেনেগালের মতো দলেও রয়েছে একাধিক মুসলিম ফুটবলার। বিশেষ করে সেনেগালের সাদিও মানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আলোচিত। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা মরক্কোর মতো দলগুলো শিরোপা জিতলে বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করবেন মুসলিম তারকারাও।

এনএনবাংলা/