




রাজধানীর কাফরুল এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবককে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়।
শুক্রবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন মো. রাফি। এ সময় ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান।
ঘটনার পর অভিযুক্তরাই রাফিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চারজনকে শনাক্ত করে। তারা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু, মো. ফয়সাল ওরফে কালু এবং মো. আমিন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পারভেজকে এবং ঢাকার ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে র্যাব-৪ কাফরুল এলাকা থেকে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছ থেকে রাফির মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাফির বাসায় আগে ভাড়া থাকতেন পারভেজ। তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ৯ জুন সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে তারা রাফিকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধের চেষ্টা করেন। মোটরসাইকেল না থামালে পারভেজ ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করতে ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন বলে প্রচার চালায়। পরে তাকে অটোরিকশায় করে ইব্রাহিমপুর এলাকায় ফেলে রেখে চলে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার পারভেজ ও কালুর বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পারভেজ ও বাবুর জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাফির স্বজনরা তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাফি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ঘটনার আলোচনা হলেও তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
এনএনবাংলা/
Tags: মাদক ব্যবসা বিরোধমোটরসাইকেল আরোহীকে ইট নিক্ষেপ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন