সাম্প্রতিক
একনেকে ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা রামপালের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ: বাড়ছে লোডশেডিং, এখনো পৌঁছায়নি ভারতীয় প্রকৌশলী ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাচ্ছে ট্রাম্প আনিসুলের ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, ৭৩৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট-গাড়িসহ সম্পদ জব্দ, ১৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার ডিসি প্রত্যাহার ১৮ দিন পর ব্যাগ-মোবাইলসহ ‘আসল আসামি’ ধরার দাবি করল ডিবি একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে নতুন রেকর্ড
Skip to content

‘রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্নে’ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষারত রাখা এবং ইমিগ্রেশন জটিলতাকে ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, ভারতের কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যায়ে তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে তিনি সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত সফরে যাইনি, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ প্রয়োজন ছিল। ভারতের কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি দিলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। কারণ, রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের একটি নিজস্ব অবস্থান বা ‘সিগনেচার’ থাকা প্রয়োজন।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, “এটি শেখ হাসিনার সরকার নয়, এটি জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার।”

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এ ঘটনার কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি হোক, তা তিনি চান না।

ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে আমি অবশ্যই ভারত সফর করব। আমি ভারতের সঙ্গে যৌক্তিক ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রাখতে চাই। বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের নীতি এই সরকারের নয়।” তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সফরের অংশ হিসেবে গত ১৪ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে অভ্যর্থনা জানালেও ইমিগ্রেশন ডেস্কে গিয়ে তিনি জটিলতার মুখে পড়েন।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় তার তথ্য যাচাই করেন এবং আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান গ্রহণের পর তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তার নাম ‘ওয়াচলিস্ট’ বা নজরদারি তালিকায় রয়েছে।

এ পরিস্থিতিকে অপমানজনক উল্লেখ করে ঢাকার উচ্চপর্যায়ের মহলের সঙ্গে আলোচনা শেষে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়, তবুও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার সময় জাহেদ উর রহমানের নাম নজরদারি তালিকায় উঠে আসার কারণেই এই বিলম্বের ঘটনা ঘটে।

এনএনবাংলা/