Skip to content

Upcoming
United States
0-0
Australia
Source: ESPN

চার সেনা নিহতের পর গোটা লেবানন ধ্বংসের হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই ঘটনার পর দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির গোটা লেবাননকে ‘জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার’ করার হুমকি দিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত চার সেনার মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তিনি একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট দোর গেদালিয়া বেন সিমশন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেন গভির বলেন, “আমেরিকানদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরায়েলের উচিত সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দেওয়া যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার অধিকার আমরা ত্যাগ করতে পারি না। গোটা লেবাননকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছি, ইসরায়েলি এক মায়ের প্রতি ফোঁটা অশ্রুর জন্য লেবাননের হাজার মাকে কাঁদতে হবে।”

বেন গভিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত হেনে ‘সন্ত্রাসকে গুঁড়িয়ে’ দিতে হবে।

লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ চায় ফ্রান্স

এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো বলেছেন, লেবাননে চলমান হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, লেবাননের সেনাবাহিনীকে সমর্থন জোগাতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগে কাজ করছে ফ্রান্স।

তার এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামছে না

সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর দূরত্ব বাড়ছে

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে, ওই হামলা পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।

অন্যদিকে, তেহরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুললেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইসরায়েলের দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।

মানবিক সংকট আরও গভীর

লেবাননে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে ব্যাপক উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

এনএনবাংলা/