




রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) আয়ের তুলনায় ব্যয় ৩২ গুণ বেশি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১৯৯টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গত ১১ মাসে করসহ বিটিভির মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিপরীতে একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ছিল ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হলেও ব্যয় দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় ছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যেখানে ব্যয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
৩০০ ফেসবুক ও ১৯৯ এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ২২৯টি। এছাড়া সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচারকারী ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১৯৯টি এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন ও চরিত্রহননের বিষয় নিয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ‘শিকারী সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশ করেছে।
গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিদিন দেশের দৈনিক পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের লিংক সংগ্রহ করে ছকভিত্তিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ
জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকতা রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, নিবন্ধন এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরির বিধান যুক্ত করে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪ সংশোধনের কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরির জন্য দেশের ৩২ জেলা থেকে প্রাপ্ত সাংবাদিকদের তথ্য হালনাগাদের কাজও চলমান রয়েছে।
দেশে ৫৫ বেসরকারি টিভি, সম্প্রচারে ৩৯টি
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে ৩৯টি চ্যানেল সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৫৯৩টি এবং অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত ৮৪৩টি। এছাড়া নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৪৭৪টি, যার মধ্যে ২৮২টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ১৩১টি দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ এবং ৬১টি আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল।
১৫ বছরে অনুমোদন পেয়েছে ৪০ টিভি চ্যানেল
চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে ৪০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে ৬টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এনএনবাংলা/
Tags: জহির উদ্দিন স্বপনজাতীয় সংসদতথ্যমন্ত্রীবাংলাদেশ টেলিভিশনবিটিভির আয় ব্যয়
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন