Skip to content

Upcoming
Croatia
0-0
Ghana
Source: ESPN

নাটোরের মাধনগরে রেলওয়ের পুকুর ভরাট করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ

নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ব্রিটিশ আমলের একটি পুকুর ভরাট করে অবৈধভাবে মাসুদ রানা সহ কয়েকজন প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দোকানপাট নির্মাণের করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারি এই জলাশয় দখল করে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করছে। দিনের পর দিন মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়েই দখলদাররা সরকারি সম্পত্তি দখল করে ব্যবসায়িক স্থাপনা গড়ে তুলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাধনগর রেলওয়ে স্টেশনের সামনের পুরোনো পুকুরটির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে টিনশেড ও আধাপাকা দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই পুকুরটি স্টেশন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বে পুকুরটির অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাতেনূর রহমান মৃধা বলেন,

“এটি ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের পুকুর। বহু বছর ধরে মানুষ এই পুকুরটি দেখে আসছে। এখন মসজিদের সামনের এই পুকুরটি পরিকল্পিতভাবে ভরাট করা হচ্ছে। সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করা হলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আলম বলেন,

“সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ রেলওয়ের জায়গা প্রকাশ্যে দখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি। দ্রুত এই দখল বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে পুকুরের একাংশে মাটি ফেলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পুরো জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে দোকান নির্মাণ শুরু হয়। বর্তমানে একাধিক দোকান নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এতে সরকারি সম্পত্তি যেমন বেহাত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুদ বলেন,

“আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমি কোনো অবৈধ কাজ করছি না। বর্তমানে দোকান নির্মাণ কাজ আমার বন্ধ রয়েছে। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, সেটিই মেনে নেওয়া হবে।”

মাধনগর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল আওয়াল বলেন,

“রেলওয়ের জায়গা দখলের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।