Skip to content

লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘৩৬ জুলাই ও স্বপ্নের বাংলাদেশ’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আলোচনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ছবি: এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ-এর সৌজন্যে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৩৬ জুলাই ও স্বপ্নের বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। স্মরণসভা ও আলোচনা ছাড়াও এতে ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ-এর উদ্যোগে লস অ্যাঞ্জেলেসের চার্চ অব সায়েন্টোলজি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনলাইনে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নাতনী এ. কে. ফ্লোরা হক। তিনি শের-ই-বাংলার গণমুখী রাজনীতি, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন তুলে ধরেন।

তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহান ব্যক্তিত্বদের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে মানবিকতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। জ্ঞান, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের ভূমিকা রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

অনলাইনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হক, যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ এবং রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ।

‘জুলাই শুধু স্মৃতি নয়’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ-এর আহ্বায়ক রিদোয়ান হোসেন তালুকদার (অক্ষর)। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে নিহিত উল্লেখ করে তিনি জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সংগঠক আলমগীর মাহবুব বলেন, ‘জুলাই কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনের চলমান অঙ্গীকার।’

নিউ জার্সির স্থানীয় সংগঠক তৌকির চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ঐক্য, সহমর্মিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের সহসভাপতি ও এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ-এর সেল সমন্বয়কারী মূখ্য সচিব সিনথিয়া পারভীন মল্লিক বলেন, জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দেশ ও প্রবাসের তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাফলা ট্রাস্টি বোর্ডের ফাউন্ডিং চেয়ারম্যান ও বাংলার বিজয় বহরের সহপ্রতিষ্ঠাতা কমিশনার মুজিব সিদ্দিকি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এনপিএ-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য জান্নাতুল মাওয়া তরুণদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। হাছান আল বান্না সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ইসমাইল হোসেন বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জাতির ইতিহাস ও চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন টিটু, রেজা শাহনেওয়াজ সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার নাসিমুল গণি, প্রফেসর ড. মাহমুদ খান, কবি ও ঔপন্যাসিক এম. মাসুদ ইসলাম, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মশরুল হুদা, আবুল কাশেম তোহা ও শাজেদ চৌধুরী মাকলিনসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ছবি, শিশুদের আঁকা ও গান

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন মুহূর্তের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন লস অ্যাঞ্জেলেসের কণ্ঠশিল্পী মিতালী কাজল ও মেজর সাইফ কুতুবী। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন রেজা শাহনেওয়াজ সেলিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সানজিদা সুলতানা ও কামরুজ্জামান সানি।

আয়োজন সফল করতে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ-এর কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা সাইফুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মো. আশরাফুল আফতাব, মো. কামরুজ্জামান সাগর, মো. তানভীর রহমানসহ ক্যালিফোর্নিয়ার সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ভূমিকা রাখেন।

স্মৃতিচারণ, আলোচনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

এনএনবাংলা/