বারিধারায় নির্মাণশ্রমিককে গাড়িচাপা: অবশেষে গ্রেপ্তার সেই কিশোর চালক

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার কিশোরের নাম আজান আলী শরীফ (১৭)। সে গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির মালিকের ছেলে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী কিশোরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারার ১ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের নির্মাণাধীন সাইটের বিপরীতে ১৩ নম্বর বাসার সামনে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় ডার্ক ব্লু রঙের একটি প্রোটন প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়।
গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-৬৬৭৬। গাড়িচাপায় মেহেদীর মাথা, বুক-পিঠের ডান পাশ, অণ্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনেন। এ সময় গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকেও স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে কিশোরটি ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের গুলশান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনার পর পুলিশ গাড়ির চালককে আটক করে। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে তাকেই অভিযুক্ত হিসেবে ধরা হয়েছিল। এ কারণেই মামলায় চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম দেওয়া হয়।
তবে পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পারে, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন ওই কিশোর। এরপর তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির পোস্টে ধাক্কা দিয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। অপর পাশ থেকে শার্ট পরা এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিও গাড়ি থেকে নামেন।
পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে কিশোরটিকে সেখান থেকে এক পাশে সরে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, আজান আলী শরীফের বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
মেহেদী হাসানের বাবার নাম এরশাদুল হক। তার বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় হাজীপাড়ায়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে।
এনএনবাংলা/
