সাম্প্রতিক
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,০৬০ টাকা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দ্রুত সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ও ইউএইর গুরুত্বারোপ শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি ঘুসসহ আটক লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার তাহসিফ সাউরি হত্যা: বন্ধু দীপ ফের ৩ দিনের রিমান্ডে ঘরের মধ্যে মুড়ির প্যাকেট বিস্ফো’রণ, জামায়াত নেতা আহত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প নেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভোরে উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ
Skip to content

উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে: বিশ্বব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। অন্যদিকে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। এ পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি অত্যন্ত ধীর। এ খাতে বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে ৮২টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের গড় হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এমনকি মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক।

ফলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ নিরাপদ ও স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ধরনের কাজে নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি ও আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে। বিকল্প চাকরির সুযোগ না পেয়ে অনেকে ছোট উদ্যোগেও যুক্ত হচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০৪৫ সালে দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আগামী প্রায় দুই দশক এই জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠী অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

প্রতিবেদনে শ্রমবাজারে নারীর কম অংশগ্রহণ, মানবসম্পদ উন্নয়নে ঘাটতি এবং শ্রম-উৎপাদনশীলতার ধীরগতিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের দুর্বল চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ২০ শতাংশ সেখানে কর্মরত। শহরে চিকিৎসকের ঘনত্ব গ্রামের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার মাত্র ৩৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে সরকারি বয়স্ক ভাতা মাসে ৫০০ টাকা, যা দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের গড় আয়ের মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের মাত্র ২ শতাংশ পায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তুলনায় শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, তরুণদের বাজারভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুষ্ঠানিক অর্থায়ন সহজ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় জনমিতিক পরিবর্তনের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বার্ষিক অবদান ২০৫০ সাল নাগাদ কমে শূন্য দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তাই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে এখনই কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এনএনবাংলা/