সাম্প্রতিক
মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন জেন-জি বিক্ষোভে আবার উত্তাল ইউরোপ: ৪ দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধরপাকড় ও লুটপাট শ্রমিক অসন্তোষে ৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক: বিজিএমইএ তীব্র গরমে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আয় হারিয়েছে চার দিন বন্ধ থাকবে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, বাড়তে পারে গ্যাস সংকট সাজেকে দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি, অবরোধে বন্ধ যান চলাচল মণিপুরে ফের জাতিগত সংঘাত, পৃথক দুই হামলায় নিহত ৫ পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে এইচএসসিতে পাস সাড়ে ৬ লাখ, উচ্চশিক্ষায় আসন প্রায় ১৫ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশ
Skip to content

মালয়েশিয়ায় ‘ভুয়া ওয়ার্ক পাস’ চক্র, ২৭ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারীকে কথিত জালিয়াত চক্রের হোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন মিয়ানমার ও দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (ই-পিএলকেএস) কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং একটি ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশি শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ অভিযান চালানো হলো। অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া। এরপর দুই দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাইয়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে বাংলাদেশ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তাদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ গুণ পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে দুদক।

এনএনবাংলা/