কানাডা থেকে দেশে ফেরত আসছে ৯৬৮ বাংলাদেশি

কানাডায় অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশটি থেকে ২২৭ বাংলাদেশিকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এই সংখ্যা গত পুরো বছরের তুলনায় প্রায় ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার (কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৬৮ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দেশভিত্তিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এ সংস্থার ৩০ জুন পর্যন্ত ‘রিমুভালস ইন প্রোগ্রেস’ তথ্য বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের বড় অংশই আশ্রয়প্রার্থী। বিভিন্ন দেশের মোট ৪০ হাজার ৮২৭ নাগরিকের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
সিবিএসএর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেয়ে অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন ও শরণার্থী (রিফিউজি) দাবির অসংগতির কারণেই অধিকাংশ নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়, যার প্রায় ৮১ শতাংশই রিফিউজি ক্লেম সংক্রান্ত নিয়ম না মানায় বহিষ্কৃত হয়েছেন।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) তথ্যানুসারে, ফিফা বিশ্বকাপের খেলা দেখার অজুহাতে ভিজিটর ভিসায় কানাডায় প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন জানানোর তালিকায় বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। ভিজিটর ভিসায় আসা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন জানানো ১৭৫ জনের মধ্যে অন্তত ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
কানাডা থেকে বাংলাদেশিদের বিতাড়নের পেছনে কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, ভিসা সংক্রান্ত অনিয়ম, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া। দেশটি একই সঙ্গে অস্থায়ী বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তবে কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুযায়ী একজন বিদেশি নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না মানলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হতে পারে।
এনএনবাংলা/এফএস
