সৌদিতে ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে কামরুল হোসেন (৩৭) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কামরুল হোসেন (৩৭) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খোরশেদ আলমের ছেলে।
গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে তায়েফ হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে তিনি কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ এবং তার আত্মচিৎকার শোনা যায়। এরপর তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বজনরা।
কামরুল যে সুপারমার্কেটে কাজ করতেন তার পাশের ফার্মেসিতে কর্মরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বরাতে জানা যায়, কামরুল জামান সুপারমার্কেটে ডিউটি শেষে বাসায় ফিরছিলেন। সে সময় তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ ওই সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে নিজ কর্মস্থলের ভেতরে ঢুকে পড়লে হামলাকারী পেছনে তাড়া করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পরে হামলাকারী নিজে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর আতঙ্কে সুপারমার্কেটের অন্য কর্মীরা পালিয়ে যান। কেন এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কামরুলের মরদেহ দেশে এনে পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এনএনবাংলা/এফএস

