সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

হাসিনাপুত্র জয়ের ভার্চুয়াল বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

 

কলকাতা আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইসিসিআর) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমত্যাচ্যুত ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও সে সময় নিহতদের প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জয় বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ‘অনেক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে’ এবং তার মতে, তা একটি ভুল ছিল। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নির্বাচন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন।

এই বক্তব্যের পর কলকাতার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সরাসরি সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন, আবার কেউ সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেছেন।

প্রথম প্রতিক্রিয়া আসে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দিক থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, এ ধরনের বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষণ বই প্রকাশের অনুষ্ঠান বা জনসাধারণের সাংস্কৃতিক মঞ্চে হওয়া উচিত নয়। তার মতে, এমন মন্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, “কলকাতা আমাদের সাংস্কৃতিক রাজধানী। এখানে রাজনৈতিক কণ্ঠ তোলা উচিত কিনা, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।”

অন্যদিকে বিজেপি প্রতিনিধি পঙ্কজ রায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করা প্রত্যেকের অধিকার। তিনি বলেন, বই প্রকাশনা একটি সাহিত্যসম্পর্কিত অনুষ্ঠান হলেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকলে তা আলোচনার বিষয় হতে পারে।

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল মন্তব্য করেন, বই প্রকাশের অনুষ্ঠানের আড়ালে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, জয়ের মন্তব্য কলকাতার রাজনৈতিক জনমতকে বিভক্ত করেছে।

স্বাধীন লেখক ও পরিচালক দীপ হালদার বলেন, “আমরা এখানে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে আসি। কিন্তু অনেক সময় বক্তৃতা রাজনৈতিক হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের উচিত ছিল সাহিত্যকেই প্রাধান্য দেওয়া।”

তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য উপযুক্ত না হলেও মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব কর্মসূচিতে এমন বিষয় তোলা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার সমর্থিত এক বামপন্থি বিশ্লেষক বলেন, কলকাতার মতো জনসমাবেশ কেন্দ্রের মঞ্চে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।

এদিকে আয়োজক সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’ জানায়, এটি একটি সাহিত্যসম্পর্কিত অনুষ্ঠান ছিল। তাদের দাবি, বক্তৃতাগুলোকে রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং বইয়ের প্রেক্ষাপটে বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

এনএনবাংলা/