সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ইরানকে হামলা না চালাতে বলেছে সৌদি আরব, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

ছবি: রয়টার্স

 

সৌদি আরব ইরানকে সতর্ক করেছে, তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও যদি নিজেদের ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকে, তবে রিয়াদ প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চারটি সূত্র রয়টার্সকে।

শনিবার, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ভাষণে তেহরানের হামলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের আগে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই ইরানকে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষোভ প্রশমিত করতে এই ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুই দিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং রিয়াদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানান। তিনি বলেন, উত্তেজনা প্রশমিত করতে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব রাজি। তবে সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চললে রিয়াদও যুক্তরাষ্ট্রকে তার ঘাঁটি ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া দেখানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে শুরু করে। এরপর থেকে সৌদি আরব তার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরব ইরান থেকে ছোড়া একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে ব্যস্ত।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার চেষ্টা অনুযায়ী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে থাকে। এরপর ইসরায়েল লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও হামলায় নামে।

আরাগচি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড, জলসীমা ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না।

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলা না আসলে ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ পাল্টা হামলা স্থগিত রাখার অনুমোদন দিয়েছে। ইরানের পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি, তিনি বলেন।

তবে তার মন্তব্যের পরও শনিবার উপসাগরের একাধিক দেশে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারস এক বিবৃতিতে জানায়, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘাঁটিগুলো ‘মূল নিশানা’ হিসেবে থাকবে। তারা জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এখনও বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার কারণে এসেছে।

সৌদি ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুটি ইরানি উৎস। ওই ফোনালাপে সৌদি আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইরান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে, হামলার লক্ষ্য উপসাগরীয় দেশ নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা।

সৌদি আরবের অবস্থানের পাল্টায় ইরান অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ এবং কিছু দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তবে অনেক ইরানি সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হামলা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

গত কয়েক বছরে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ