সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অবশেষে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, এতদিন দাম না বাড়ালেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত ‘যুদ্ধকালীন অবস্থার’ মতো, যেখানে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই তাদের তেলের দাম সমন্বয় করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর আমদানি করা জ্বালানির প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছিল। যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে জ্বালানি আমদানি করতে হয়, তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

সম্প্রতি সরকার প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে, যা বাজারে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মূল্য সমন্বয় করা হলেও জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি; বরং এখনও ভর্তুকি বহাল রয়েছে। তবে ভর্তুকির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে মন্ত্রণালয়ের হিসাব পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের প্রভাব সব দেশেই পড়ে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়, ফলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এর আগে সরকার জানিয়েছিল, এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন ব্যয় বাড়াবে এবং এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এনএনবাংলা/পিএইচ