Skip to content

Upcoming
Argentina
0-0
Egypt
Source: ESPN

কিউবার সঙ্গে উত্তেজনা

এবার ক্যারিবিয়ান সাগরে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ক্যারিবিয়ান সাগরেও নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ বুধবার ক্যারিবিয়ান সাগরে পৌঁছেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইউএসএস নিমিৎজ (সিভিএন-৬৮), ক্যারিয়ার এয়ার উইং-১৭ (সিভিডব্লিউ-১৭), ইউএসএস গ্রিডলি (ডিডিজি-১০১) এবং ইউএসএনএস প্যাটাক্সেন্ট (টি-এও-২০১) যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, প্রাণঘাতী শক্তি ও কৌশলগত সুবিধার প্রতীক।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ান প্রণালি থেকে আরব্য উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইউএসএস নিমিৎজ। বিশ্বজুড়ে এর সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা নতুন নয়। গত শতকের ষাটের দশক থেকে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। একাধিকবার কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, যদিও প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন কিউবার প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেয়। দুই মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশ কিউবাকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগে ভেনেজুয়েলা থেকে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করত কিউবা, যা দেশটির জন্য ছিল অনেকটা ‘লাইফলাইন’। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের চালান বন্ধ করে দেওয়ার পর গত দুই মাস ধরে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশটি।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে কিউবা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গুয়ান্তানামো উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্যেই এসব ড্রোন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রোববার কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি২ এবং দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর অন্তত তিনজন জেনারেল এবং কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

এছাড়া কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও সম্প্রতি মার্কিন আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যারিবিয়ান সাগরে ইউএসএস নিমিৎজ মোতায়েন করায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক নিয়ে।

এনএনবাংলা/পিএইচ