Skip to content

এক যুগ ধরে সেক্সুয়ালি অ্যাবিউজের শিকার শবনম ফারিয়া

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরে জানান, বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই হয়রানিতে তিনি এখন চরমভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

ফারিয়া তার পোস্টে শরীফ আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডাক্তার আইজুদ্দিন’ নামে পরিচিত। অভিনেত্রীর দাবি, গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে ওই ব্যক্তি তাকে নিয়মিত অনলাইনে হয়রানি করে আসছেন।

পোস্টে ফারিয়া লিখেছেন, তিনি শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি এবং অভিযুক্তকে ব্লক করে রেখেছিলেন। তবে এরপরও ওই ব্যক্তি প্রতিনিয়ত তার ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি মনগড়া গল্প তৈরি, ব্যক্তিগত ছবি সেক্সুয়ালাইজ করা এবং বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্টের মাধ্যমে তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, এই হয়রানি শুধু বডি শেমিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বছরের পর বছর ধরে তা তাকে মানসিক ও আবেগগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে গত দেড় বছরে পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী রেহনুমা সারমিনের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেছিলেন ফারিয়া। তবে সেখান থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একজন নারী ও একজন মায়ের পক্ষে এমন আচরণ উপেক্ষা করা তার কাছে বোধগম্য নয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, নিজেকে আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে থাকেন। পাশাপাশি ফারিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা রয়েছে এবং তিনি সেখানে কারাভোগও করেছেন।

এতদিন নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে শবনম ফারিয়া বলেন, তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তবে দীর্ঘদিনের এই হয়রানি এখন তার সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “আমি জানি এই পোস্টের পর হয়তো হয়রানি আরও বাড়বে। কিন্তু আমি খুব ক্লান্ত। এতদিন চুপ থাকতে থাকতে ক্লান্ত, সবকিছু এড়িয়ে যেতে যেতে ক্লান্ত, বছরের পর বছর ধরে এই হয়রানি সহ্য করে কিছু হয়নি এমন ভাব দেখাতেও ক্লান্ত।”

এনএনবাংলা/