শাকিবের ‘রকস্টার’ ঘিরে দর্শকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত মেগাস্টার শাকিব খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রকস্টার’ দর্শকমহলে তৈরি করেছে ব্যাপক আলোচনা। দেশজুড়ে শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটি যেমন দর্শকের আগ্রহ কুড়িয়েছে, তেমনি গল্প, উপস্থাপনা ও বিষয়বস্তু নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঈদের দিন মাল্টিপ্লেক্সসহ দেশের ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘রকস্টার’। মুক্তির পর থেকেই বিভিন্ন হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও সিনেমা দেখে বেরিয়ে দর্শকদের মতামতে দেখা গেছে ভিন্নতা। কেউ সিনেমাটিকে সাহসী ও ব্যতিক্রমধর্মী কাজ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ গল্প ও উপস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দর্শক প্রতিক্রিয়ার ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, অনেকেই ‘রকস্টার’কে শাকিব খানের আগের জনপ্রিয় অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘তুফান’ বা ‘তাণ্ডব’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, অ্যাকশন ঘরানার প্রত্যাশা নিয়ে হলে গিয়ে ভিন্নধর্মী মিউজিক্যাল গল্পের কারণে কিছু দর্শক সিনেমাটির মূল বক্তব্য ধরতে পারেননি।
একজন দর্শক বলেন, ‘সবাই তুফান বা তাণ্ডবের মতো সিনেমা আশা করেছে। কিন্তু রকস্টার ভিন্ন ধরনের গল্প বলেছে। শাকিব খানকে নতুনভাবে দেখানো হয়েছে, যা সবাই সহজে গ্রহণ করতে পারছে না।’
অন্যদিকে কিছু দর্শক সরাসরি সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের গল্পে শাকিব খানকে দেখতে তারা অভ্যস্ত নন। তাদের মতে, এই ধরনের পরীক্ষামূলক কাজ তার ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সপরিবারে সিনেমা দেখতে আসা কয়েকজন দর্শক মাঝপথেই হল ত্যাগ করে মন্তব্য করেন, সিনেমার কিছু বিষয়বস্তু ও মাদকের প্রসঙ্গ পারিবারিক দর্শনের জন্য অস্বস্তিকর। তবে সিঙ্গেল স্ক্রিনের অনেক সাধারণ দর্শক সিনেমাটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে যখন সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন শাকিব খানের ভক্তগোষ্ঠী ‘শাকিবিয়ান’দের বিভিন্ন গ্রুপে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। তাদের দাবি, ‘রকস্টার’ গল্পের গভীরতা, সংগীতনির্ভর উপস্থাপনা এবং শাকিব খানের ভিন্নধর্মী অভিনয়ের কারণে বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার।
দর্শক আগ্রহ ও টিকিট বিক্রির ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় সিনেমাটির শো সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, দেশের অন্যতম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তির প্রথম দিনে ‘রকস্টার’-এর শো ছিল ১৮টি। দ্বিতীয় দিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬-এ।
সমালোচনার মুখে সিনেমাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন নির্মাতা আজমান রুশো। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একজন রকস্টারের জীবন সাধারণ মানুষের মতো নয়। খ্যাতি, ব্যক্তিগত সংকট, পারিবারিক ট্রমা এবং মানসিক সংগ্রাম—সবকিছু মিলিয়েই একজন শিল্পীর জীবন গড়ে ওঠে। বাস্তব জীবনের একাধিক রকস্টারের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটির গল্প নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘রকস্টার’ কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকের জন্য নয়। আন্তর্জাতিক মানের নতুন ধরনের গল্প বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই ছিল তার লক্ষ্য। তার মতে, চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশের জন্য অ্যাকশন, রোমান্স কিংবা কমার্শিয়াল ধারার পাশাপাশি মিউজিক্যাল ও ভিন্ন ঘরানার সিনেমাও প্রয়োজন।
নির্মাতার বিশ্বাস, দর্শক যদি এই নতুন ধারার গল্প গ্রহণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
উল্লেখ্য, আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমায় একজন সংগীতশিল্পীর উত্থান, খ্যাতি, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন এবং পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সুনিধি নায়েক।
এনএনবাংলা/
