Skip to content

LIVE 90'+3'
Norway
1-3
France
Source: ESPN

‘হায় হোসেন হায় হোসেন’ মাতমে সরব কুলাউড়ার ইমামবাড়াগুলো

‘হায় হোসেন হায় হোসেন’ মর্সিয়া শোক মাতমে নিজ শরীর রক্তাক্ত করে সরব কুলাউড়ার ইমামবাড়াগুলো।

শুক্রবার (১০ মহরম) আশুরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে উপজেলার লংলা পরগনার পৃথিমপাশার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার ইমামবাড়ায় শিয়া মতাবলম্বীরা পবিত্র মহরম উপলক্ষে ইমাম হোসাইন ও কারবালার শহীদদের স্মরণে মজলিশ, মাতম, মর্সিয়া, জারি, নোহা, শোক মিছিলের মাধ্যমে মহরম পালন করেছেন।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় জমিদার বাড়ির হোসেনি দালান থেকে বের হয় সু-সজ্জিত তাজিয়া মিছিল। শিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় সহস্রাধিক পুরুষ নানা অনুষঙ্গ, তাজিয়া, কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে মিছিলে অংশ নেয়। খালি পায়ে মিছিলে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শোকের প্রতীক কালো পোশাক পরিধান করে।

দীর্ঘ সাড়ে তিনশত বছর ধরে বৃহত্তর সিলেটের নবাব আলী আমজদের পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত এই জমিদার বাড়ি (নবাব বাড়ি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। মহরমকে কেন্দ্র করে নবাববাড়ির আশপাশের এলাকায় লোকে লোকারণ্য ছিল। ভাসমান প্রায় কয়েক শতাধিক দোকান-পাটের মেলা বসে। দেশ বিদেশের নানা প্রান্ত থেকেও শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আশুরা উপলক্ষে এখানে ছুটে এসেছেন। প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে জমিদার বাড়িতে। পহেলা মহরম থেকে দশ মহরম পর্যন্ত পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ীর ইমামবাড়া, তরফি সাহেব বাড়ী, ছোট সাহেব বাড়ী, মরহুম শাহাদাত হোসেনের বাড়ী, বাগবাড়ী, মনরাজ সাহেব বাড়ী, পাল্লাকান্দি সাহেব বাড়ীসহ অন্যান্য ইমামবাড়া গুলোতে মহরম ও কারবালার ইতিহাস স্মরণে মজলিশ, মাতম, নোওহা, জিয়ারত, দোয়া, জারি অনুষ্ঠানাদি হয়।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় পৃথিমপাশার জমিদার বাড়ির হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিলসহ ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজের শরীর রক্তাক্ত করে মিছিলটি আলী আমজদ স্কুল এন্ড কলেজের সম্মুখে রবিরবাজার পদ্মদিঘির পার স্থানীয় কারবালা প্রান্তরে (কবরস্থানে) গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে মহরমের সেই বিষাদময় দিনে ইমাম হোসেনের করুন মৃত্যুর প্রতিবাদে ‘হায় হোসেন হায় হোসেন’ মাতম করে আবারও নিজের শরীর রক্তাক্ত করে কারবালার শোকে শোক পালন করেন। কালো জামা রক্তে ভিজে চুপসে গেছে আর সাদা জামা হয়ে উঠে রক্তে রঞ্জিত। তবুও হায় হোসেন, হায় হোসেন, ধ্বনিতে প্রকম্পিত হচ্ছে জমিদার বাড়ির আকাশ-বাতাস। তাজিয়া মিছিলে বুক চাপড়ে, জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে প্রকাশ করা হয় মাতম। কেউ আবার ধারালো ছোরাগুচ্ছ দিয়ে নিজ শরীর ও মাথা রক্তাত্ব করতে দেখা যায়।

পৃথিমপাশার শিয়া অনুসারীরা জানান, মিছিলের শুরুতেই দুটি কালো গম্বুজ বহন করা হয় বিবি ফাতেমার স্মরণে। এছাড়াও মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন নিশান নিয়ে আসেন। যে যার মতো এই নিশান বহন করেন। মিছিলের মধ্যে হায় হোসেন, হায় হোসেন করে শোকের গান গাওয়া হয় সমবেত কন্ঠে। এছাড়াও অনেকেই বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ বলে মাতম করতে থাকেন।

আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিল হয়। এদিকে জমিদার বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক স্থরের নিরাপত্তা চাদরের বেষ্টনি তৈরি করা হয়। সব রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো জমিদার বাড়ি জুড়েই পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ প্রস্তুত ছিলো বলে জানান কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না। পৃথিমপাশা ওয়াকফ স্টেইটের যুগ্ম মোতাওয়াল্লী ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য এ্যাড. নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন বলেন, ‘আজকের এই দিনটির আমাদের জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যর ধারক। দীর্ঘ সাড়ে তিনশত বছর ধরে পৃথিমপাশায় শিয়া, সুন্নি ও অন্যান্য মতাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবছরের মতো এবারও আশুরার শোক পালন করা হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।’