সাম্প্রতিক
Skip to content

উত্তরা ফাইন্যান্সে চেয়ারম্যান-এমডিসহ একসঙ্গে ৪ পরিচালকের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একযোগে চার পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগ করা পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির এবং আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহও পদত্যাগ করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও উত্তরা গ্রুপের সিএফওকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে এমডি ছাড়া বাকি তিন স্বতন্ত্র পরিচালককে ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োগ দেয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়ালি উল্লাহ উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। চার পরিচালকের পদত্যাগের ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মাত্র দুজন। তাদের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম। অন্যজন উত্তরা গ্রুপের সিএফও ও পরিচালক মাহবুব আলম এফসিএমএ।

পদত্যাগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান, এমডি এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবিরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এর আগে আমানতের টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে নিজেদের মতো ব্যবহারসহ বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে ২০২২ সালে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা উত্তরা গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করা হয়।

অপসারিত পরিচালকরা হলেন—তৎকালীন চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, তার ভাই ও পরিচালক মুজিবুর রহমান, উত্তরা পরিবারের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাকিয়া রহমান এবং নাঈমুর রহমান।

মূলত ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উত্তরা ফাইন্যান্সে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে আমানতের টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে নিজেদের মতো ব্যবহার, কলমানির অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বের করা এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার মতো অনিয়ম ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।

এসব ঘটনার পর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম শামসুল আরেফিনকে ২০২২ সালের জুনে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এনএনবাংলা/