বাংলাদেশে আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি কোনো প্রতিবেদনের ওপর সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে না।
সরকার প্রতিবেদনটি আমলে নিচ্ছে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্টটি এখনও পড়িনি। পত্রিকা থেকে যতটুকু শুনেছি, হয়তো কিছু অবজারভেশন থাকতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা অনুমান করেছে এটা হতে পারে। অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো রিয়েকশন দিতে পারি না।’
কয়েক দিন আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস নিয়ে নতুন তথ্য ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। ১০ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার অবস্থান ও শক্তি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা একিউআইএস একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে তারা ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন করে রসদ সরবরাহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও একিউআইএসের সেল বা ছোট সাংগঠনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের ওই পর্যবেক্ষক দল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
একিউআইএসের কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে দায়ী করা হয়। এ প্রসঙ্গেই বাংলাদেশে একিউআইএসের সেল গঠনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একিউআইএস এখনও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত নয়। স্যাংশনস মনিটরিং টিমের তথ্য অনুযায়ী, একিউআইএস ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকভর্তি যান বিস্ফোরণের ঘটনাটিও রয়েছে। ওই হামলায় ২১ জন নিহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএসের শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের তালেবানের দেওয়া পরিচয়পত্র বা ‘তাজকিরা’ও দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের মতে, বিষয়টি তালেবান ও একিউআইএসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও বহাল রয়েছে। তালেবান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তালেবান সরকার।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আশঙ্কা, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনএনবাংলা/

