সাম্প্রতিক
Skip to content

অর্থপাচার তদন্তের মধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে এস আলমের পাল্টা মামলা

এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। ফাইল ছবি

দেশের ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে। এর বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

পাচার করা অর্থ ফেরাতে যখন সরকার তৎপর, ঠিক তখনই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা করেছেন সাইফুল আলম। মামলায় নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করে বাংলাদেশের কাছে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।

গত নভেম্বরে করা ওই মামলার শুনানি পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন লরেন্ট লেভি। সাইফুল আলমের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রতিষ্ঠান ‘কুইন এমানুয়েল’। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে নিযুক্ত হয়েছে ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেস’ এলএলপি।

মামলাটি পরিচালনার জন্য প্রথম ধাপে আইনজীবী প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এই অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শনিবার অফিস খোলা রেখে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আশঙ্কা, মামলাটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের যদি নেগ্লিজেন্স হয়, অথবা তাকে বাঁচানোর জন্য যদি কোনো প্রক্রিয়া হয়ে যদি ওখানে কনটেস্ট না করা হয়, তাহলে ডেফিনেটলি এক্স-পার্টি একটা সালিশি রোয়েদাদ হবে, এক্স-পার্টি একটা রায় হবে। সে রায়ের ফলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সেই জন্য হলেও আমি মনে করি বাংলাদেশের এই কাউন্টারপার্ট যারা যারা আছে, তারা সবাই মিলে এই কেস মোকাবেলা করা উচিত।’

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০ সালে প্রতারণার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিলেও ২০২৪ সালে সাইফুল আলম নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকের পদে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা এসব তথ্য এস আলমের বিরুদ্ধে করা অর্থপাচারের অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াতেও এসব তথ্য কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যারা অর্থ পাচার করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় কীভাবে আনা যায় এবং পাচারকৃত অর্থকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। যিনি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিপূরণের জন্য, আমরা অবশ্যই আইনগতভাবে এটাকে ডিল করছি।’

এদিকে সাইফুল আলমের করা দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আইনি এখতিয়ারবহির্ভূত বলে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চলতি মাসের শুরুতেই বাদীপক্ষের লিখিত পর্যবেক্ষণের জবাবও ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে বাংলাদেশ।

এখন পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ। একদিকে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে সাইফুল আলমের করা ক্ষতিপূরণের দাবি মোকাবিলা, অন্যদিকে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা—দুই দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশের আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ।

এনএনবাংলা/