সাম্প্রতিক
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা, কতটা কার্যকর হবে? রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ, তদন্তে আরও ৪ জন হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে একজনের প্রাণহানি তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের ৩১৭, প্রথম দিনেই নাটকীয় উত্থান-পতন শেখ হাসিনার আমলে দুই বিচার নিয়ে কী বলেছিলেন নাভি পিল্লাই? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির মোটরসাইকেলে এসে বিকাশকর্মীদের গাড়িতে গুলি, দুই বস্তায় থাকা তিন কোটি টাকা লুট নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে ছয় কোটি ২০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত
Skip to content

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত সংস্থাটি নিয়মিত পণ্যের তালিকায় থাকা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি রমজানসহ বিভিন্ন সময়ের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংগৃহীত পণ্যের অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তিনি জানান, ক্রয় পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক পণ্য দেশীয় উৎস এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দর বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও সরবরাহ নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকেই সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে টিসিবি চলতি অর্থবছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে।

বর্তমানে টিসিবির ৯টি নিজস্ব ও ৩১টি ভাড়াকৃত গুদাম মিলিয়ে মোট ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা আরও অন্তত ১০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে।

এদিকে টিসিবির বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ডের মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে মোবাইল স্ক্যানিংয়ের পরিবর্তে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ও বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল রসিদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।

টিসিবির নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আটা, গুঁড়া মরিচ, হলুদ ও অন্যান্য মসলা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নতুন পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় এবং এগুলো ভর্তুকি ছাড়া নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কিছুটা কম মূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হবে।

পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে টিসিবি নিয়মিতভাবে মাসভিত্তিক চাহিদা, মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহের ওপর নজরদারি করছে। বর্তমানে সংস্থাটির নিজস্ব ও ভাড়া করা মোট ৪০টি গুদামে প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন পণ্য ধারণের সক্ষমতা রয়েছে।

এনএনবাংলা/এফএস