২ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু, মধ্যরাত থেকেই বাড়তে যাচ্ছে গ্যাস সরবরাহ

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার মধ্যরাত নাগাদ নতুন আসা এলএনজি কার্গো থেকে সরবরাহ শুরু হবে। এতে সারা দেশে চলমান গ্যাস-সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুরের দিকে এলএনজিবাহী একটি কার্গো মহেশখালী উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, বেলা ২টার দিকে কার্গোটি এক্সিলারেটের এফএসআরইউর কাছে পৌঁছে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর কার্গো থেকে এলএনজি আনলোড শুরু হওয়ার কথা।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ছিল ঘণ্টায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেল ৪টার দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে। এ সময় এলএনজিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও নিয়মিত সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায়।
গত এক মাসে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি টার্মিনালে একের পর এক বিপত্তির কারণে দেশে একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংও হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরুর খবরে শিল্প মালিকেরা আবার উৎপাদনে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তবে যেসব এলাকায় বর্তমানে গ্যাস নেই, সেখানে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিতরণ সংস্থা তিতাস।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ নেওয়াজ পারভেজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হবে। এরপর ঢাকাসহ তিতাসের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় গ্যাস পৌঁছাবে। এ কারণে পুরো সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাইপলাইনগুলোতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও সব এলাকায় স্বাভাবিক চাপ ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিতাসের এই কর্মকর্তা জানান, গরমের কারণে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ওই বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে লাইনে পাওয়া বাড়তি গ্যাস থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় সরবরাহ বাড়ানো হবে।
এনএনবাংলা/

