যন্ত্রাংশের নামে রেঞ্জ রোভার ও বিএমডব্লিউ গাড়ি আমদানির চেষ্টা

মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণার দিয়ে আমদানি করা একটি চালানে আসলে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির বড় বড় অংশ শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, চালানটিতে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এসব গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।
অন্যদিকে, পুরো চালানটিকে ১৪ ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চালানটিতে ১৪ ধরনের ১৬৪ প্যাকেজে বিভিন্ন ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল গাড়ির দরজা, ২০০০ সিসির পেট্রোল ইঞ্জিন ও গিয়ার অ্যাসেম্বলি, সাসপেনশন, নোজ কাট, হেডলাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিয়ারিং, বাম্পার, ডিফারেনশিয়াল ও অ্যাক্সেলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এসব পণ্যের মোট ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয় মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আস্ত গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে খালাসের অপচেষ্টা চালায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় শতভাগ কায়িক পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে এসব গাড়ির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস

