গ্যাস সংকটে গাজীপুর-নোয়াখালী

গাজীপুরের এবং নোয়াখালীতে গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনেগুলোতে জ্বালানি নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহণ মালিক ও চালকেরা। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে কারখানার উৎপাদন।
গ্যাসের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস মিলছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতে কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইন। আর সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা জরুরি সেবায়-গ্যাস না পেয়ে এম্বুলেন্স অচল, রোগীর জীবন নিয়ে টানাটানি। কালিয়াকৈর উপজেলা বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত এম্বুলেন্সে ও সি এনজির লম্বা লাইন।
গ্যাসের তীব্র স্বল্পতার কারণে রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের আবাসিক গ্রাহকদেরও।
প্রয়োজনীয় চাপের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অনেক কম থাকায় অনেক কারখানায় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে কোথাও ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কোথাও যন্ত্রের পরিবর্তে হাতে কাজ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
পরিবহন চালকরা জানান, ভোররাত থেকে ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে গাড়ির জমা, ব্যক্তিগত খরচ ও দৈনন্দিন আয় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। তাদের দাবি প্রয়োজনে দাম বাড়িয়ে হলেও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের কিছুই করার নেই। বরং প্রতিনিয়তই লোকসানে পড়ছেন তারা। আগে যেখানে একটি গাড়িতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস দেওয়া সম্ভব হতো, বর্তমানে সেখানে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার মতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়তে পারে। তাই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমনকি তীব্র গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকরা মনগড়া বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নোয়াখালীর অনেকগুলো সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও বাড়বে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে, বাড়ছে বিমান পরিবহনের খরচও।
এনএনবাংলা/এফএস

