সাম্প্রতিক
২৫ বছর আগে ১ অক্টোবরের নির্বাচনে যেভাবে বড় জয় পেয়েছিল বিএনপি অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো ‘অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির এমপি মিষ্টির পদত্যাগপত্র গৃহীত, সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ অঙ্গরাজ্যে কেন নয়? চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ১৫ বছর চালাবে বিদেশি অপারেটর, চুক্তি অনুমোদন অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা ৪৬ হাজার কোটি টাকায় মেট্রোরেলের ভূগর্ভস্থ-উড়ালপথ নির্মাণের অনুমোদন ৪৫৯২ জনবল নিয়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু, থাকবেন ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট অবরোধে অস্থির ফ্রান্স: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, বন্ধ ১৬০টির বেশি স্কুল একটি দলের ‘অপশক্তি’ অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ফিটনেসবিহীন বাসে ভোগান্তিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ভাড়ায় চালিত বাসগুলোর অধিকাংশেরই ফিটনেস নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। জরাজীর্ণ সিট, ব্রেকিং সিস্টেমে ত্রুটি এবং বাসের ভেতর ছারপোকার উপদ্রবের কারণে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় চালিত দুপুর আড়াইটার বাস ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মোড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসার সময় হঠাৎ ব্রেক ফেইল করে। চালক গাড়ির গতি কমিয়ে আনলে হেলপার দ্রুত নেমে চাকার নিচে ইট দিয়ে বাসটি থামান। এতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহানা আনজুম মিম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আজই প্রথম নয়। প্রতিনিয়তই এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাসের ব্রেকিং সিস্টেমে সমস্যা থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায়ই রাস্তায় বাস বিকল হয়ে পড়ায় সময়মতো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাচ্ছে না।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত চলাচলকারী বাসগুলোর সিট জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন। সিটের ফাঁকফোকরসহ পুরো বাসজুড়ে ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনের সময়ও বাসের ভেতরে ছারপোকা ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গালিব হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস হলেও এগুলোকে লোকাল বাস মনে হয়। জানালার কার্নিশসহ বিভিন্ন জায়গায় ছারপোকার পুরো একটি আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই ভোগান্তির।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ৯টি এবং ভাড়ায় চালিত ৮টি বাস রয়েছে। এই পরিবহন খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি। প্রতি মাসে ব্যয় হয় ২২ থেকে ২৪ লাখ টাকা এবং প্রতিদিনের খরচ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ের পরও এমন নিম্নমানের সেবায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন বাস কিনে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।

যোগাযোগ করা হলে পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো. আল-আমিন বলেন, “ভাড়ায় চালিত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু এসব গাড়ি ভাড়া নেয়। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা পরিবহন প্রশাসকের কাছে জানাতে পারেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, “বাসের সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই হলের আসন সংকট কিংবা পরিবহন সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি, কিছু সমস্যা থেকেই যায়। তারপরও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

মাঝেমধ্যে বাস বিকল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইঞ্জিনের সমস্যা আগে থেকে বলা যায় না। তবে অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হবে। আমরা টেন্ডারের মাধ্যমে ভালো মানের বাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খুঁজেছি, কিন্তু আমাদের নির্ধারিত শর্ত ও রেটে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে বিআরটিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের কাছ থেকে ৯টি বাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

এনএনবাংলা/