কালকিনিতে হামলায় অচল শিক্ষককের দুই পা হারানোর শঙ্কা!
প্রায় দুইমাস ধরে বিছানায় খাওয়া-দাওয়া, বিছানাই বাথরুম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।
কোমলমতি শিশুদের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বজনদের হামলায় দুই পা’ অচল। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সরকারি শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। কবে স্বাভাবিক হয়ে আবারো শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে যেতে পারবেন সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকও।
মাদারীপুরের কালকিনির এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। গেল সোমবার দুপুরে হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সাথে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজনের সাথে বিরোধ তৈরি হয়।
এই জেরে গত ২রা জুলাই বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর লিপি বেগমের নির্দেশে অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। রাজনকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওইদিনই রাতেই রাজনকে পাঠানো হয় রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। একমাস পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেয়ে নিয়ে আসা গ্রামের বাড়িতে।
স্বজনদের অভিযোগ, ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে নিজের অপরাধ ঢাকতেই এমন কর্মকান্ড করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। পুলিশের সূত্র বলছে, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের বাবা মাজেদ আলী শিকদার বাদী হয়ে লিপি ও তার ভাইসহ ৫ জনের নামে কালকিনি থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা সবাই উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং-এর খাবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার বাড়িতে নিয়ে যেত। এটি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলেই দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে তার নির্দেশের লিপি আক্তারের ভাই মিলন মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার দুই পা ভেঙ্গে দেয়। এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।
মামলার বাদী মাজেদ আলী শিকদার বলেন, ‘সন্ত্রাসী স্টাইলে আমার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার ছেলে কবে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবে সেটাও জানি না। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এই হামলাকারী ও নির্দেশদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই এই ঘটনার সাথে কোন অবস্থাতেই জড়িত নই। আর ঘটনাস্থলে না এসে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে। এজন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। আমি ন্যায়ের সাথে আছি। সত্যের জয় হবেই।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালতে দেয়া হবে অভিযোগপত্র।’
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী জানান, ‘একজন শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলা কিছুতেই মেনে নেয়ার নয়। কালকিনির সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্র নাথ দত্ত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রিপোর্ট প্রদান করেছেন। সেই আলোকেই এরই মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে জেলা শিক্ষা অফিস।
এনএনবাংলা/
